Showing posts with label Chakma Script. Show all posts
Showing posts with label Chakma Script. Show all posts

Thursday, November 15, 2018

30 MINIDE CHANGMA LEGHA

30 Minide Changma Legha

A condensed Chakma Script Learning Course prepared by Maadi Team to train the Primary School Teachers assigned to teach Chakma Subject in 58 Primary schools in Tripura.

Click here to download 30 Minide Ch

NADA BHET-1 Maths for Class I


Click here to download NADABHET-1 Nada Bhet-Maths for Class I

KEYBOARD LAYOUT OF CHAKMA FONTS : A COMPARATIVE STUDY

The most used Chakma fonts in India are Chakma(SuJayan) created by Dangu Er. Jayan Chakma and Sujoy Chakma and Punongjun created by Dangu Er. Jayan Chakma. District School Education Board, Chakma Autonomous District Council (CADC), Mizoram is using Chakma(SuJayan) in their Text Books and here in Tripura we are using Punongjun. In Dechhul (CHTs), Indigenous Cultural Institute, Rangamatye used Chadigang fonts in its Text Books. Recently, Bivuti Chakma and Jyoti Chakma of Ribeng IT Solutions, Rangamatye developed Alaam fonts in collaborating with Indigenous Cultural Institute. They were also successfully developed the only Chakma Unicode font RibengUni. Earlier, there were two fonts in use in Dechhul namely BijoyGiri DPC (created by Deba Priya Chakma) and NishanChakma.

It means, by 2012, we are having at least five ASCII (American Standard Code for Information Interchange) fonts and one Unicode font to write in Chakma. But the problem is. we cannot use all the fonts easily due to different keyboard layouts of each font. The font developers did not followed a fixed pattern while placing fonts in the keyboard. As example, if we learn `a  s d f g / ; l k j h’ formula for English typing, we can use all the fonts available in Roman scripts. Similarly, if we learn `Bijoy’ in Bengali, we can use almost all fonts available for writing in Bengali except Amar Bangla, Satyajit and some other minor systems. But in Chakma,

তিবুরা: চাঙমা লেঘার পইদ্যানে পরাক পরাক হয়েকখান হধা

আকহধা

তিবুরাত চাঙমাগুনোর জননাদা প্রায় এক লাখর ইন্ধি-উন্ধি। ১৯-চো উপজাতির মধ্যে চাঙমাঘুন জননাদাধি দি নম্বর আ গদা তিবুরাত চাঙমাঘান তিন নম্বর ডাঙর ভাষা। তিবুরার লোকসংখ্যার ৩% আ উপজাতি লোকসংখ্যার ১২.৫% চাঙমা। বেচভাক চাঙমা তিবুরার দেরগাঙ, মনুগাঙ, ফেনীগাঙর হুরে হারে আদামানিত বজত্তি গত্থন। মোটামুটি রাজা কৃঞ্চ মানিক্যর আমলত্থুন ধরি (১৭ শ শতক) গুমেদত আ ১৮ শতকর শেজত্থুন ধরি দেরগাঙত চাঙমাগুনোর বজত্তির বিজগী মাজারা তোগেই পা’ যায়। পড়া-শুনোধি তিবুরার চাঙমাঘুন সারেপারা আক্কোলেয়ো উবর হাবর পেশা বা সরকারী চাগরীত তারা এভ’ লেমপোচ্যে। গদা তিবুরাত বানা ১৫ জন চাঙমা টিসিএস/টিপিএস, চের জন বানা কলেজর মাস্টর, হন’ আইএএস অফিসার নেই, এক জন বানা উকিল - ইয়েনিয়ে গমেদালে চাঙমাগুনোর উনোঘান ফগদাঙ গরে। রাজনীতিদিধ’ তারা আর’ বেচ লেমপোচ্যা। চের পাচ্যান এডিসি/বিধানসভা সিদোত চাঙমাঘুনোর জয়-পরাজয় ঠিক গরিভার ক্ষমতা থেলেয়ো তারা হন’ দিন এক্কানত্থুন বেচ কেন্দ্রত - সিয়ে এডিসি ওহ্ক বা বিধানসভা, হন’ দিন জু ন’ পা’ন। তিবুরার চাঙমাগুনোর নিজস্ব হন’ রাজনৈতিক দল নেই বা এমন হন’ দলো নেই যিবে চাঙমা হজমা নেতাগুনোরে লারেগরি রাজনীতি শিগি নেতা ওবার সুযোগ দিবো। যার ফলে ইধু নেতা অনাগান বেজাদি নেতাগুনোর দয়ের উগুরেই ভর গোচ্যে। সেনত্যায় তারা নিজর জাদর সুখ-দুগোর হধা যেত্তোমান ভাবন সিত্থুন বেচ ভাবদে বাধ্য অন হি গরিলে ‘উতারা’ খুজি ওবাক। আর ঠিক ইয়োদই তিবুরার চাঙমাগুনোর বে’ক ফ্রন্টত অহ্দি যেবার শুরু।

চাঙমা লেঘা হেত্তেই দরকার

আমি যে যে কারনে চাঙমা লেঘার পক্ষে সওয়াল গরিই তার হয়েকখান মুলুক কারন অলদে :-
ক) চাঙমা লেঘাগান বানা চাঙমাগুনোর নয় গদা ভারদরই পুরোনি পোতপোত্যা সভ্যতার একখান মাজারা। গদা ভারদত প্রায় এক আহ্জারর হাজাহাচ্যা হধা থেলেয়ো উকখোর আঘন ২০ বাবদরো হম। ভারত সরকারে পুরোনি বিজগী মাজারাগানি বাজেই

কেত্তেই আমার চাঙমা লেঘা দরকার

এক কালর ধনে-জনে-জ্ঞানে পতপত্যা শাক্য জাদর মানুজ আমি চাঙমাঘুন বিজগর নানা ঘুলন্যাত পাক খেনেই ইক্কুনু ছত্রভঙ্গ। ভারত-বাংলাদেজ-বার্মা আ নানান দেজত ছিদেছিত্যে ওহ্নেই জাত-বেজাতর চাবত পরিনেই আহ্রেই ফেলের আমার বেক দোল হাচ্যেক্কানি। বেক হিঝু আহ্রেনেয়ো আমা আহ্দত রোয়ে বানা আমা ধর্মঘান আ আমা ওক্কোরুন। এ দিয়েন আমার আরাঙ সম্পত্তি বুঘত ধরি রক্ষে গরি ন পারিলে চাঙমা জাত একদিন আন্দামানর ‘বো’ জাত্তো সান গরি পিত্থিমিত্তুন লুগেই যেবগোই।

একমাত্র চাঙমা ওক্কোরুনেই পিত্থিমির বুঘোত ইক্কো জুদো জাত ভিলি আমারে চিন দি পারন। কারন দেঘা যায় যে, লোকসংখ্যাদি অরুনাচলত এক নম্বর, মিজোরামত দি নম্বর আ তিবুরাত তিন নম্বর ভাষাগুত্থি অহ্না সত্তেয়ো ভারদর সেন্সাস রিপোর্টত চাঙমাগানরে একখান আলাদা ভাষা ঈজেবে ধরা ন অহ্য়। ধরা অহ্য়দে বাংলার একখান উপভাষা ঈজেবে। ভারদর লিঙ্গুইস্টিক মাইনরিটিজ কমিশনেয়ো চাঙমাঘান আলাদা ভাষা ঈজেবে স্বীগের ন গরে। উত্তর-পূগ ভারদর ট্রাইবেল ভাষাগানির সরকারী লিস্টদো চাঙমা ভাষাগানর নাঙ নেই।

ইয়েনির ভেক্কানির কারন অহ্লদে আমার লেঘা-লেঘিত চাঙমার বদলে বাংলা ওক্কোরুন লারচার গরানাহ্। অনেগে হয়ত হোই পারন ককবরক, মনিপুরী - এ ভাষার মানুষ্যুনেয়োদ’ বাংলা বা এ বাবদর অহ্রক লারচার গরন। তে সে ভাষানি হিঙিরি আলাদা ভাষার মর্যাদা পায় ? তার কারন অহ্লদে এ ভাষাগানি বাংলা আ অসমীয়াত্তুন ভোজোমান ফারক - সম্পূর্ন জুদো ভাষাগুত্থির। আমা ভাষাগান বাংলার লঘে একই ইন্দো-ইউরোপীয় ভাষাগুত্থির অহ্নার ফলে বাংলা লঘে হধে-শুনদে প্রায় হায়-হি, সে উগুরে আমি লারচার গরিই বাংলা অহ্রক - সেনত্যেই ভাষা কাবিলুনো চোঘোত চাঙমা ভাষাগান আলাদা ভাষা ঈজেবে চিহ্নিত গরিভার মত হন ডাঙর ধক চোঘোত ন পরে।

আমি যদি আগেত্তুন ধরিনেই আমা লেঘা-লেঘিত চাঙমা ওক্কোরুন বেচগরি লারচার গরি এধঙ সালে পত্থমত্তুন ধরিনেই চাঙমাঘান আলাদা ভাষা ঈজেবে স্বীকৃতি পেই এলুন আ আমা ভাষাগান ভালেদ গরিবাত্যেই নানান বাবদর বলাবলো বেজ পেলঙুন। আজলেহ্ বাংলা ওক্কোরুন আমি যেধকদিন সঙ পুরোপুরি লুঙিহ্ মারি ন পারিবোঙ সেধকদিন সঙ আমার ‘টিলা বাঙাল’ বন্নামানো ন যেব’ আ চাঙমা ভাষাগানো আলাদা ভাষা ঈজেবে স্বীকৃতি ন পেভ’।

আমা ভারদত এক আহ্জারর হাজাহাচ্যে ভাষা আঘে মাত্তর ওক্কোর আঘন্নে বানাহ্ ২০ বাবদরো হম। সিত্তুন বেজভাক ভাষায় দেবনাগরী ওক্কোরুন লারচার গরন আ চিগোন-চাগোন ভাষাগানিত বেজভাক রোমান ওক্কোর লারচার গরাহ্ অহ্য়। অনেকে আবার নিজে নিজে ওক্কোরো বানেয়োন। যেমন, সাঁওতালুনোর ‘আলচিকি’। হন ভাষার ওক্কোর থানা মানে সিয়েন এক্কান ভজমান বার গরি পারে পারা হধা। আমা ওক্কোরুন বানা চাঙমাগুনোর নয় সিগুন ভারদর পুরনি সংস্কৃতির একখান দোল মাজারা। সেনত্তেই সিঘুন বাজেই রাঘানা বানা চাঙমা জাদর নয় গদা ভারদর মানুষ্যুনোর দায়িত্ব আঘে ভিলি আমি মনে গরিই।

এচ্চে আমি চাঙমাঘুন তিন দেঝর নানা বামত ছিদেছিত্যে ওহ্ই আঘিই। দেজফারক, পরিবেশ ফারক, শিক্ষার মাধ্যমর ফারক - ইয়েনিয়ে আমারে ফারক গরার আর’ বেজ গরি। আমা বাংলা ওক্কোরোর লেঘা-লেঘিনি মিজোরাম-অরুনাচলত পড়ি ন পারন আ তারা লেখ্যা রোমান অহ্রগর চাঙমাগানি পড়িলে আমি ভাচ জরেই ন পারিই। আঝলে হন ইক্কো জাদে দি বাবদর অহ্রক হন দিন গঝি লোই ন পারন। আর যদি লন্নে অহ্য় সিয়েন অহ্ব’ তারার নাতদি মরানার সান।

বিজগত নাঙহিন্যে আঘে যে আমা জাত্তো প্রায় ৬০০ বঝর আগে দৈংনাক্যা, আনক্যা, তোঙতোঙ্যা - এ তিন ভাগে ভাক ওহ্ই যেয়ে। হয়েকদিন পরে আমার ভিদিরে হয়ত জনম লভ’ বাংলাদেচ্যে চাঙমা, ভারত্যা চাঙমা, মিজোরাম্যা, অরুনাচল্যা চাঙমা - এ বাবদর আর নুও নুও ধেলা। মনত উধে জনেশ আয়ন চাঙমার কবিতা - ‘পরে বেইল্যাক তেঙেরা,/ মিঝেল-মাজাল এক পাড়াল্যা ভাত পিলে ওল দজোরা।’ আজলে আমার পরর তেঙেরায় দেজ ভাঙালা। আর সে উগুরে যদি আমি এক জনর ভাষ আরেক জনে ন বুঝে পারা গরি ওক্কোরোর তেঙেরা বেড়ি সালেন চাঙমা জাত্তো হাহ্জেইদ্যা গাঝর সান গরি লারে কিন্তু হামাক্কায় গরি মরানার পধত লর দিবো।

একমাত্র অঝাপাত্তোই পারিবো আমারে এ মরনর পধত্তুন ফিরেই আনি। একমাত্র চাঙমা লেঘার রেগাদি পারিলেই মিলি পারিবোঙ আমি দৈংনাক্যা-আনক্যা-তোঙতোঙ্যায়। মিলি পারিবোঙ দেজকুল্যা-অরুনাচল্যা-মিজোরাম্যা-তিবুরাকুল্যায়। সালেই আমি বলবলা গরি নাঙ হোলেই পারিবোঙ - অহ্য় আমি শাক্য জাদর মানুজ - আমি হন জনত্তুন হন হিত্যেদি উনো নয়।

মাাদি,  এপ্রিল, ২০১০, আট্য বঝর, নাদা - ৪৯

ত্রিপুরায় মাতৃভাষায় শিক্ষার হদ্দমুদ্দঃ চাকমা ভাষা প্রেক্ষিত-ফুল সদক চাকমা

Placard-6

গত ১৪ই আগস্ট ২০১২ মহাসাড়ম্বরে উদ্বোধন হয়ে গেল ককবরক ও সংখ্যালঘু ভাষা উন্নয়ণ ডিরেক্টরেটের। এর এক সপ্তাহ আগে অর্থাৎ ৭ই আগস্ট ঘোষণা করা হয়েছিল চাকমা ভাষাকে চাকমা হরফে চালু করার ক্যাবিনেট সিদ্ধান্ত। স্বভাবতই ত্রিপুরাবাসী চাকমা জনগণ আবেগে আপ্লুত। যার ফলে ১৬ই আগস্টের ত্রিপুরা রাজ্য চাকমা হরফ দাবী কমিটির বিশাল বিক্ষোভ মিছিলটি বিজয় মিছিলে (প্রকারান্তরে বামফ্রন্ট সরকারকে অভিনন্দন জানানোর মিছিলে) পরিনত হয়ে গিয়েছিল। এখানে বামফ্রন্টের, বিশেষভাবে মুখ্যমন্ত্রী মানিক সরকারের কূটনীতির প্রশংসা করতেই হয়। জানা যায় ১৬ই আগস্ট মুখ্যমন্ত্রী চাকমা হরফ দাবী কমিটির প্রতিনিধিগণকে চাকমা ভাষা উন্নয়নের সকল প্রকার সাহায্য দান তথা অতি সত্বর চাকমা হরফে পাঠ দানের কাজ শুরু করার আশ্বাস দিয়েছেন। তবে চাকমা ভাষা-ভাষী জনগণ তাদের আন্দোলনের মাধ্যমে কি অর্জণ করেছেন তারা নিজেও জানেন না এবং আমার স্থির বিশ্বাস আন্দোলনকারীগণকে মূখ্যমন্ত্রী সঠিক কি দিয়েছেন তিনি সেটা নিজেও জানেন না। কেন একথা বলছি সে ব্যাপারে পরে আসছি।

সরকারের তথ্য মোতাবেক বর্তমানে ত্রিপুরায় ৯৪৩ টি স্কুলে ককবরক, ৫৮ টি স্কুলে চাকমা, ৪৯ টি স্কুলে হালাম-কুকি, ৩৬ টি স্কুলে বিঞ্চুপ্রিয়া মণিপুরি ও ২৮ টি স্কুলে মণিপুরী ভাষায় পড়ানো হচ্ছে। অর্থাৎ সরকার ত্রিপুরার আদিবাসীদেরকে বা সংখ্যালঘু ভাষার জনগোষ্ঠীদেরকে ১১১৪ টি স্কুলে মাতৃভাষায় শিক্ষা গ্রহণের অধিকার দিয়েছে। কিন্তু মাতৃভাষায় শিক্ষা পাওয়ার অধিকার দানের নামে ককবরক, বিঞ্চুপ্রিয়া মণিপুরী, মণিপুরী ও হালাম-কুকি ভাষা-ভাষীদের কি হচ্ছে জানা না গেলেও চাকমা ভাষায় শিক্ষা দানের নামে যে ছেলে খেলা হচ্ছে তাতে ভবিষ্যতে যে কি ভয়াবহ ফলাফল বয়ে আনবে তা ভগবানই একমাত্র জানেন।

২০০৪ সালের মাতৃভাষা দিবসে পেচারতল অঞ্চলের ৬ টি বিদ্যালয়ে (পরবর্তীতে তাতে আরও ৩ টি বিদ্যালয় যোগ করা হয়) চাকমা ভাষায় শিক্ষাদানের ঘোষণার মাধ্যমে ত্রিপুরাবাসী চাকমা জনগণের মাতৃভাষায় শিক্ষায় অধিকার পাওয়ার যাত্রা শুরু হয়। তা ২০০৭ এর ৬ আগস্ট ২০ টি স্কুলে ও ২০১০ এর ২ মার্চ আরও ২৯ টি স্কুলে সম্প্রসারিত হয়। বর্তমানে মোট ৫৮ টি স্কুলে সরকারী ভাষ্য মোতাবেক চাকমা ভাষায় পাঠদান চলছে।

২০০৪ সালে যখন চাকমা ভাষায় শিক্ষাদানের ঘোষণা করা হয় তখন চাকমা জনপদ গুলিতে কিছুটা হলেও খুশীর হাওয়া বয়ে যায়। কিছুটা বলছি এ কারনে যে তাদের সবার ইচ্ছে ছিল মাতৃভাষাকে নিজস্ব হরফে পাওয়ার। কিন্ত তা করা হয় বাংলা হরফে। যার ফলে অনেকেই তার বিরোধ করতে থাকে। তা সত্তে¡ও কোন কোন মহল থেকে যথেষ্ঠ উৎসাহ দেখানো হয়। হাজার হোক মাতৃভাষা বলে কথা। তা যে কোন হরফেই হোক না কেন। কিন্তু ঘোষণার পরে সত্যি সত্যি বিদ্যালয়ে চালু হওয়ার পর চাকমা জনগণ অবাক হয়ে দেখল মাতৃভাষায় শিক্ষার নামে যেটা দেওয়া হয়েছে সেটা একটা মস্ত ফাঁকি ছাড়া আর কিছু ছিল না।

প্রথমতঃ, চিহ্নিত বিদ্যালয় গুলিতে চাকমা ভাষায় শুধু একটি মাত্র বিষয় চালু করা হল। বলা হল সেই বিদ্যালয়ে পাঠরত চাকমা ছাত্র-ছাত্রীরা ইচ্ছে করলে অতিরিক্ত একটি বিষয় (অর্থাৎ চাকমা) নিতে পারবে।

দ্বিতীয়তঃ, এখানে মাতৃভাষায় শিক্ষার প্রাথমিক শর্তটিই (কারন এখানে শিক্ষার মাধ্যম অন্য ভাষাই থেকে যাচ্ছে) লঙ্ঘিত হল। অধিকন্তু অধিকার পাওয়া জনগোষ্ঠীর কোমলমতি ছেলে-মেয়েদের স্কুলে পা দেওয়ার সঙ্গে সঙ্গে দু’দুটি ভাষার বোঝা বহন করতে বাধ্য করা হল। জানা গেছে ১৬ই আগস্ট সাক্ষাতকারকালে মুখ্যমন্ত্রী সব বিষয় গুলি চাকমা ভাষায় করা অথবা একটি বিষয়েই সীমাবদ্ধ রাখার সিদ্ধান্তটি চাকমা হরফ দাবী কমিটির প্রতিনিধিদের উপর ছেড়ে দিলেও বিষয়ান্তরে তিনি একটি বিষয়ে সীমাবদ্ধ রাখার পক্ষেই সওয়াল করেছেন। অর্থাৎ সোজা কথায় তিনি মাতৃভাষায় শিক্ষার বিপক্ষে রায় দিয়েছেন। উদাহরণ হিসেবে তিনি নাকি ককবরক ভাষায় পাঠরত ছাত্র-ছাত্রীদের উত্তোরত্তর খারাপ ফলাফলের কথা উল্লেখ করেছেন। ককবরক ভাষায় শিক্ষা গ্রহণ করলে নাকি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের গন্ডি ডিঙিয়েও (মানে ষষ্ঠ শ্রেণীতে উঠলেও) ছাত্র-ছাত্রীরা নিজের নাম দস্তখত করতে পারে না। এটা যে ত্রিপুরার প্রত্যন্ত অঞ্চলগুলিতে প্রাথমিক শিক্ষার বাস্তবতা তা স্বীকার না করে তিনি দোষ চাপিয়ে দিয়েছেন ককবরক ভাষার উপর। সকল কালের সকল দেশের শিক্ষাবিদদের মতামতকে ফুৎকারে উড়িয়ে দিয়ে তিনি বলতে চেয়েছেন, মাতৃভাষার বদলে অন্য ভাষায় শিক্ষা দিলেই ছাত্র-ছাত্রীরা ভাল শেখে। স্বাধীনতার ৬৬ বছর পরে এই প্রকারের ঔপনিবেশিক মানসিকতা সত্যিই দুঃখজনক। তবে হ্যাঁ, ত্রিপুরার লিঙ্গুয়া ফ্রাঙ্কা বা যোগাযোগের ভাষা হিসেবে বাংলাকে এবং ভারতের কমার্সিয়াল বা উপার্জনের ভাষা হিসেবে ইংরেজিকে আমরা কখনোই অস্বীকার করতে পারবো না। তাই বলে আমরা একটি অবুঝ শিশুকে সে ভাষাগুলি শেখানোর মাধ্যমে তার জীবনের শিক্ষার পর্ব শুরু করতে চাইবো তা কোন শিক্ষাবিদই সমর্থন করবেন না।

তৃতীয়তঃ, চাকমা ভাষা-ভাষী ছাত্র-ছাত্রীদের অতিরিক্ত একটি বিষয় পড়ানোর কারনে তাদের পরীক্ষার ফলাফলের সঙ্গে অন্যান্য ভাষার ছাত্র-ছাত্রীদের পরীক্ষার ফলাফল তুলনা করা দুরূহ হয়ে উঠল। কারন একটি বিষয় বেশী হওয়ার কারনে স্বভাবতঃই চাকমা ছাত্র-ছাত্রীদের প্রাপ্ত মোট নম্বর বেশী হয়ে যাচ্ছিলো। শোনা যায় এ ধরণের অভুতপূর্ব সমস্যার মুখোমুখি হয়ে অনেক চাকমা ভাষায় পঠন-পাঠন করার জন্য চিহ্নিত বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক তাঁদের নিজ নিজ বিদ্যালয় পরিদর্শকের দরবারে সমস্যা সমাধানরে দিগনির্দেশের জন্যে উপস্থিত হয়েছিলেন। বলাবাহুল্য, ওঁরা কেউই এই অস্বাভাবিক সমস্যার সমাধান বাতলাতে পারেননি। চতুর্থতঃ, যেহেতু চাকমা বিষয়টিকে প্রথম থেকেই একটি আবশ্যিক বিষয় হিসেবে চালু করা হয়নি এবং পাশাপাশি অন্য সব বিষয় মাতৃভাষার বদলে অন্য আরেকটি ভাষায় শেখানো হচ্ছিল, তাই অনেক চাকমা ছেলে-মেয়ে নিজের ভাষার বিষয়টিকে ধীরে ধীরে একটি অনাবশ্যক বোঝা বলেই মনে করতে থাকলো এবং ত্রিপুরার চাকমা জনগনেরও তথাকথিত মাতৃভাষায় শিক্ষাগ্রহণের মোহ কাটতে থাকলো। তার উপরে আছে নিজস্ব হরফ থাকা সত্তে¡ও অন্য একটি হরফ চাপিয়ে দেওয়ার চাপা ক্ষোভ। এর ফলে দেখা গেল চাকমাদের মাতৃভাষায় শিক্ষা গ্রহণের অধিকার দেওয়ার ৬ বছরের মাথায় ২০১০ সালে যখন আরও ২৯ টি বিদ্যালয়ে চাকমা ভাষায় পঠন-পাঠনের সুযোগ সম্প্রসারণ করা হচ্ছে তখন তথাকথিত মাতৃভাষায় শিক্ষা গ্রহণে কেউ আর উৎসাহী নয়। আজ ২০১২ সালের মাঝামাঝিতে এসে মুখ্যমন্ত্রী যখন সংখ্যালঘু ভাষা গুলির উন্নতির জন্য পৃথক ডিরেক্টরেট গঠণ করছেন, চাকমা ভাষাকে চাকমা হরফে চালু করার কথা ঘোষণা করছেন তখন দুঃখের সঙ্গে বলতে হয় যে সরকার ঘোষিত ৫৮ টি বিদ্যালয়ের কোন বিদ্যালয়েই আর চাকমা বিষয় পড়ানো হয়না।

তার চাইতেও দুঃখজনক ব্যাপার হল যেসব চাকমা ভাষা ও চাকমা সম্প্রদায়ের সঙ্গে সম্পর্কবিহীন সদস্যদের নিয়ে চাকমা ভাষা উন্নয়ন উপদেষ্ঠা কমিটি গঠণ করা হয়েছিল তাদের কেওই এসব সমস্যা নিরসনের উদ্যোগ নেওয়াতো দূরের কথা কোন সমস্যা হচ্ছে কিনা তার খবর নেওয়ারও প্রয়োজন মনে করেননি। শোনা যায় বিদ্যালয়গুলিতে চাকমা ভাষায় সঠিকভাবে পঠন-পাঠন হচ্ছে কিনা তার খোঁজ না রাখার জন্য উপদেষ্ঠা কমিটির সভাপতি বিধায়ক অরুন কুমার চাকমা সহ সকল সদস্যদের বিদ্যালয় শিক্ষামন্ত্রী তপন চক্রবর্তীর কাছে কয়েকবার গালমন্দও শুনতে হয়েছিল। চিহ্নিত বিদ্যালয়গুলি নিয়মিত ভিজিট করতে যাওয়ার জন্য শিক্ষামন্ত্রীনাকি প্রয়োজনবশতঃ যানবাহন দেবারও প্রস্তাব করেছিলেন। কিন্তু এসব স্বঘোষিত চাকমা ভাষা উন্নয়ণকারীদের কেউই সে কথায় কর্ণপাত করেননি। কারণ কমিটিতে কে কে আছে সে হিসেবেই ওনারা কমিটির মূল্যায়ণ করতে অভ্যস্ত কমিটিটি কি কি কাজ করলো সে হিসেবে নয়।

তাই বলছিলাম, আন্দোলনকারীগনকে মুখ্যমন্ত্রী চাকমা ভাষা উন্নয়নের আশ্বাস দিয়েছেন, এর আগেই আগামী শিক্ষা বর্ষ থেকে চাকমা ভাষাকে চাকমা হরফে চালুর ক্যাবিনেট সিদ্ধান্তের কথা ঘোষণা দিয়েছেন, সবই ঠিক আছে। কিন্তু মাতৃভাষায় শিক্ষা গ্রহণের সুয়োগ, যা সরকার ইতিমধ্যেই দিয়ে রেখেছেন তার প্রকৃত বাস্তবায়নে যে যে প্রতিবন্ধকতা গুলি দেখা দিয়েছিল সেগুলির কোন সমাধান সূত্র কি তিনি দিয়েছেন ? সব আন্দোলনকারীই বলবেন, না। তাহলে ? আর খোদ মুখ্যমন্ত্রীকেই যদি সমস্যাগুলির সমাধানের কোন রাস্তা সত্যি সত্যি জিগ্যেস করা হোত তাহলে আমার মনে হয় ওনার সরকারের বিদ্যালয় পরিদর্শকগুলির মতোই তিনিও হতবাক হয়েই চেয়ে থাকতেন।

KEYBOARD LAYOUT OF CHAKMA FONTS : A COMPARATIVE STUDY

The most used Chakma fonts in India are Chakma(SuJayan) created by Dangu Er. Jayan Chakma and Sujoy Chakma and Punongjun created by Dangu...